Breaking News

শহীদ বুদ্ধিজীবী সায়ীদুল হাসান সড়কে‘র কথা কেউ জানেনা!!

স্টাফ রিপোর্টঃ


১৯৭১ সালের ১৮ মে ড্রাইভার সহ বাসা থেকে বেরিয়ে আর বাসায় ফেরা হয় নাই শহীদ বুদ্ধিজীবী সায়ীদুল হাসানের। জাতীয়ভাবে যে কজন বুদ্ধিজীবীর নাম স্মরণ করা হয় তার মধ্যে শহীদ বুদ্ধিজীবী সায়ীদুল হাসান একজন।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা থেকে জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী একমাত্র সড়কটি‘র নাম “শহীদ সায়ীদুল হাসান স্মরনী” হিসেবে নামকরন করা হলেও বর্তমানে এই রাস্তার কোথাও এই নামকরনের কোন সাইনবোর্ড কিংবা কোন স্মৃতি ফলক নেই।
অনেকেই জানেননা এই সড়কটির নাম একজন দেশ সেরা শহীদ বুদ্ধিজীবীর নামে নামকরন করা হয়েছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী সায়ীদুল হাসান হোসেন শহীদ সোরওয়ার্দী ও মাওলানা ভাসানীর সাহচার্যে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে পেশা জীবনে কূটনৈতিক এবং শিল্পপতি ছিলেন । সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে ভালবাসতেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন অনড়। সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই তার বাসায় আসতেন।

তিমি একজন সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকও ছিলেন।ইয়াহিয়া খানের আমলে সরকারি রক্তচক্ষুর পরোয়া না করে সংবাদ সংগ্রহ করতেন। যথেষ্ট ঝুঁকি নিয়ে ১৯৭০ সালে সাপ্তাহিক গণশক্তি পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেছেন। এ ব্যাপারে সরকারি অনুমতি পর্যন্ত আদায় করে নিয়েছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আন্দোলনের নেতা ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের সংস্পর্শে এসেছিলেন তিনি। প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হন। যখনই কোনো কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাস বা ভ্রান্ত ধারনা দেখতেন তার সোচ্চার প্রতিবাদ ছিল সাইদুল হাসানের বৈশিষ্ট্য।

১৯৭১ সালে তার বন্ধু সিলেটের জমিদার নির্মল চৌধুরীর মেয়েদের নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করে তিনি নিখোজ বন্ধুর খোজে ড্রাইভারসহ তার বাসা থেকে বের হন। তারপর তার আর কোন খোজ পাওয়া যায় নাই।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর উনার স্ত্রী ফরিদা হাসান ভারতীয় জেনারেলের সহায়তায় লেন্স জেনারেল নিয়াজীর সঙ্গে দেখা করে জানতে পারেন লালমাটিয়া ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজে কর্নেল মাকসুদ, নির্মল চৌধুরী, আর পি সাহা প্রমুখের সাথে সায়ীদুল হাসানকে হত্যা করা হয়।

১৯১২ সালে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কামালখানী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেছিলেন শহীদ সায়ীদুল হাসান।
তার আপন ভ্রাতস্পুত্র ব্র্যাকের প্রতিষ্টাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ।

স্যার ফজলে হাসানের নির্দেশে ব্র্যাকের উদ্যোগে বানিয়াচং কামালখানীতে “শহীদ সায়ীদুল হাসান পাঠাগার” নামে একটি আধুনিক মানের পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। এর বাইরে আর কোথাও কিছু নেই।

শহীদ বুদ্ধিজীবী সায়ীদুল হাসানের স্ত্রী সাবেক এমপি ফরিদা হাসানের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে এই সড়কটির নামকরন করা হয়েছিলো। কিছুদিন সড়কটির কোথাও কোথাও নামকরনের সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেলেও বর্তমানে আর কোথাও কোন স্মৃতি চিহ্ন নাই।

ইফতিখার নামের একজন তরুন শিক্ষক জানান, এই রাস্তাটি যে একজন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নামে তা আমরা অনেকেই জানিনা।

শাহ সুমন নামে একজন সংবাদকর্মী জানান, এই রাস্তাটিকে আমরা বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়ক নামে জানি। এটা যে একজন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নামে তা আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম।

এ ব্যাপারে সংবাদকর্মী ও হবিগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ইমদাদুল হোসেন খান জানান, নতুন প্রজন্ম জানেই না শহীদ বুদ্ধিজীবী সায়ীদুল হাসান কে? কোথায় বাড়ি? কারন একটাই উনার নামে হবিগঞ্জ জেলার কোথাও কোন স্মৃতি ফলক নেই। যে রাস্তাটি উনার নামে নামকরন করা হয়েছে সেই রাস্তাটিতে পর্যন্ত উনার নামের কোন সাইনবোর্ড নাই।

এই নিয়ে বুদ্ধিজীবী দিবস এলে কেউ কেউ সাইনবোর্ড লাগানোর দাবী তুলেন কিন্তু কিছুদিন পরই সবাই ভূলে যান।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদি শহীদ বুদ্ধিীজীবী সায়ীদুল হাসানের নামে রাস্তার নামকরন হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই খুব শীঘ্রই সাইনবোর্ড লাগানো হবে।

About Mustafijur Rahman

Check Also

দেশে ৬টি খাতকে ‘শিশুশ্রম মুক্ত’ ঘোষণা

প্রতিদান ডেস্কঃ দেশের রেশম, ট্যানারি, সিরামিক, গ্লাস, জাহাজ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানিমুখী চামড়াজাত দ্রব্য ও পাদুকা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!